বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন
১৩ কোটি ভোটার, ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত ইসি!
অনলাইন ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকায় বড়সড় পরিবর্তন আসছে। নতুন করে ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে চলেছে প্রায় পৌনে ১৩ কোটিতে। ভোটারের এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবার প্রায় তিন হাজার নতুন ভোটকেন্দ্র যুক্ত করতে যাচ্ছে। ফলস্বরূপ, আগামী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ৪৪ হাজার ৯৩৪টি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশনা পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে। এতে বলা হয়েছে, যেসব ভোটকেন্দ্র অতীতে ব্যবহৃত হয়েছে এবং যেগুলো সম্ভাব্যভাবে ব্যবহারের তালিকায় রয়েছে—তেগুলোর দ্রুত সংস্কার ও মেরামতের উদ্যোগ নিতে হবে। নির্দেশনাটি পাঠিয়েছেন ইসির উপসচিব দেওয়ান মো. সারওয়ার জাহান।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অচিরেই একটি সমন্বয় সভা ডাকা হচ্ছে। সেখানে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তকরণের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হবে। আগের নির্বাচনের তুলনায় ভোটার বাড়ায় এবার নিরাপত্তা ও লজিস্টিক খরচও কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলে ইসির একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন।
গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার ছিল ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৪০ হাজার ৩৭৪ জন, যেখানে ভোটকেন্দ্র ছিল ৪২ হাজার ১৪৮টি। কিন্তু ২০২৫ সালের হালনাগাদে ভোটার সংখ্যা এখন ১২ কোটি ৭৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮৩। এতে অতিরিক্ত প্রায় ২ হাজার ৭৮৬টি ভোটকেন্দ্র যোগ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তাই নতুন করে সাজাতে হচ্ছে। আগের নির্বাচনে মোট সাত লাখ ৪৭ হাজার ৩২২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল—যার মধ্যে আনসার ছিল পাঁচ লাখ ১৬ হাজার, কোস্টগার্ড ২ হাজার ৩৫০, বিজিবি ৪৬ হাজার ৮৭৬ এবং পুলিশ (র্যাবসহ) ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৯১ জন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, আগের তুলনায় এবারের খরচ অনেক বেড়ে যেতে পারে। আনসারের জনপ্রতি বরাদ্দ ৬৩৭ থেকে এক হাজার টাকা, কোস্টগার্ডের জন্য এক হাজার ৮২০ টাকা পর্যন্ত ছিল। বিজিবি ও পুলিশের জন্যও ছিল যথাক্রমে এক হাজার ২২৫ ও এক হাজার ৬০৬ টাকা পর্যন্ত। ভোটকেন্দ্র ও ভোটার বাড়ায় এবার বাজেটেও অতিরিক্ত চাপ পড়বে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, সব খরচ নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বাজেট থেকেই পরিচালিত হবে।